April 15, 2026, 7:14 am

সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

মৌলভীবাজারে আদালতের নির্দেশে আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার তদন্ত শুরু

মৌলভীবাজারে আদালতের নির্দেশে আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তার তদন্ত শুরু
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার

মৌলভীবাজারে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় বিভিন্ন মন্ডপের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মন্ডপে নির্ধারিত সংখ্যক অনসার না থাকার বিষয়টি সিসিতে উল্লেখ করা সত্তেও অনুপস্থিত আনসারের নামেও সম্মানীর টাকা উত্তোলন করার অভিযোগে অবশেষে মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১নং আমল আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নাজমুল হক নুর নবী। গত ১১ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত মৌলভীবাজার আনসার ভিডিপি জেলা কমান্ড্যান্ট এর কার্যালয়ে ১১১জন ভোক্তভোগী স্বাক্ষীদের মধ্যে মামলার বাদীসহ ২৪ জন ভোক্তভোগীর লিখিত ও মৌখিক স্বাক্ষী গ্রহন করেন।
গত ১৯ নভেম্বর মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১নং আমল আদালতে পুজা ও পৌর নির্বাচন ও ইউপি নির্বাচনে ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৩শত ৫০ টাকা আন্তসাত এর অভিযোগে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষীকা (ভারপ্রাপ্ত) শিবলী রাণী সিনহা, রাজনগর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ শামসুন্নাহার ও সদর উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা ছয়েফ উদ্দিনকে আসামী করে মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১নং আমল আদালতে মামলা (নং- ৬৩৫/১৭ইং (সদর), ধারা ৪০৬/৪২০ ও ৪১৭ দঃ বিঃ আইনে এ মামলাটি দায়ের করেন সাবেক আনসার কমান্ডার মোঃ ওমশেদ আলী। আগামী ১৫ জানুয়ারী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান মৌলভীবাজার জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১নং আমল আদালত। জানা গেছে- মৌলভীবাজারে জাতীয় নির্বাচন, ইউপি নির্বাচন ও দুর্গাপূজার বিভিন্ন মন্ডপের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট মন্ডপে নির্ধারিত সংখ্যক অনসার না থাকার বিষয়টি সিসিতে উল্লেখ করা সত্তেও অনুপস্থিত আনসারের নামেও সম্মানীর টাকা উত্তোলন করা হয়। যে মন্ডপে কাগজে কলমে নির্ধারিত আনসারের সংখ্যা ৫ জন, সেখানে বাস্তবে ছিল আনসার ৩ জন। জালিয়াতির মাধ্যমে রাজনগর উপজেলা আনসার ভিডিপি ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামছুনাহার, শ্রীমঙ্গল উপজেলার আনসারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুনা চৌধুরী, কমলগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা নাসিমা বেগম, কুলাউড়া উপজেলার আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাইসহ সকল উপজেলার আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা সরকারে টাকা সাগর চুরি করেছেন। এ বছর জেলায় দুর্গাপূজায় ১ হাজার ৪২ টি মন্ডপ তৈরি হয়েছিল।
অংগীভূত আনসাররদের সমমান বেতন ৪শত ৩৫ টাকা পাওয়ার কতা থাকলেও পাচ্ছে ৩শত ২০ টাকা। সাধারণ আনসারদের ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। রাজনগর উপজেলায় ১শত ১৮ টি পূজা মন্ডপ অনুপস্থিত ছিল প্রায় ১শত ৭১ জন। কুলাউড়ায় ২শত ১২টি মন্ডপে অনুপস্থিত ছিল প্রায় ৩শত ৩৩ জন আনসার।  এভাবেই জেলায় ১ হাজার ৪২টি পূজা মন্ডপে প্রায় ১৭ শত আনসারের নাম কাগজ পত্রে দেখিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা কর্মচারী। এভাবেই জেলার ৭ উপজেলার প্রায় প্রতিটি মন্ডপে কাগজে কলমে নির্ধারিত সংখ্যক আনসারের স্থলে ১ থেকে ৩ জন আনসার কম নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা জালিয়াতির মাধ্যমে আতœসাৎ করেছেন সরকারের লাখ লাখ টাকা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, রাজনগর উপজেলা, কুলাউড়া উপজেলা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার ১৯টি পূজামন্ডপে নির্ধারিত সংখ্যক আনসার নেই। কর্তব্যরত আনসাররা দীর্ঘ সময়েও নির্ধারিত সংখ্যক আনসারকে সামনে উপস্থিত। আনসারদের সম্মানীর টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে আতœসাৎ করেন উপজেলা ও জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তারা। শুধু তাই নয়, নিয়োগ করার জন্যও আনসারদের কাছ থেকে উৎকোচ আদায় করা হয় নির্ধারিত হারে। ওই উৎকোচের অর্থও ভাগাভাগি হয় উপজেলা ও জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তাদের মধ্যে। কিন্তু, নিয়োগ থেকে বাদ পড়ার ও কালো তালিকাভূক্ত হবার ভয়ে আনসাররা মুখ খোলার সাহস পাননা।
আজ ১২ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা নাজমুল হক নুর নবী ভোক্তভোগীদের স্বাক্ষী গ্রহনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন- মাননীয় আদালতের নির্দেশে তদন্ত চলছে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ হলেই আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আদালত সিন্ধান্ত নেবেন। জাতীয় দৈনিক আমাদের কন্ঠসহ বিভিন সংবাদ মাধ্যমে অনিয়মের বিষয়টি জানতে পেরে আমাদের ডিপার্টমেন্ট একটি তদন্ত করেছে। আবারও, ডিপার্টমেন্ট আরও একটি তদন্ত করছে, কিন্তু, আদালতে মামলা চলমান থাকায় ডিপার্টমেন্ট তদন্ত স্থগিত রয়েছে।

mostbet
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর